আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোহসেন রেযায়ী লেখেন, এই ঘটনা ইতিহাসে “চিরকাল অক্ষয় হয়ে থাকবে”। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান তার “শহীদ নেতাদের রক্তের জন্য শোকাহত” এবং এর “প্রতিশোধ ছাড়া কোনো প্রলেপ নেই”।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরমাণু ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পাল্টাপাল্টি হামলা ও ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটে।
পরমাণু ইস্যুতে চলমান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে একসঙ্গে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। জবাবে ইসরাইলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে তীব্র ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শুরু করে ইরান। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
তবে একই সময়ে লেবাননে সংঘাত অব্যাহত থাকে। ইসরাইলের ব্যাপক বিমান হামলায় সেখানে ৩৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরল সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো অগ্রগতি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়। এরপর ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে।
১৪ এপ্রিল লেবানন ও ইসরাইল কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করে এবং ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। কিন্তু হিজবুল্লাহ ওই আলোচনার অংশ না হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই আবার সংঘর্ষ শুরু হয়।
২১ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান, এ সময় পরোক্ষ আলোচনা চলতে থাকে। ৭ জুন ইসরাইল বৈরুতে বোমা হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পরদিন ইসরাইল মধ্য ও পশ্চিম ইরানে বিমান হামলা চালায়।
৯ জুন হরমুজ প্রণালীতে একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করে। পাল্টাপাল্টি হামলা পরবর্তী দিনও অব্যাহত থাকে।
১৪ জুন ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেন। গত বুধবার ট্রাম্প ও ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
Your Comment